পুরুষরা যদি আহত হন তাতে আমার কিছুই করার নেই : বাঁধন

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দিয়ে আলোচনায় আসা অভিনেত্রী বাঁধন বিয়ে প্রশ্নে বলেছিলেন, ‘আমার দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা এদেশের পুরুষের নাই।’ তার এমন মন্তব্যে বাহবা দিয়েছেন অনেকেই, করেছেন সমালোচনাও। মানসিকভাবে আহত হয়েছেন অনেক পুরুষ।

ওই মন্তব্য নিয়েই সম্প্রতি সমকালের সঙ্গে আলাপ হয় বাঁধনের। মন্তব্যটি জেনে বুঝেই করেছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। বাঁধন বলেন, ‘পুরুষ শব্দটা আমি ব্যবহার করেছি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে উঠা পুরুষদের জন্য।

এখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে উঠা পুরুষরা যদি আমার ওই কথায় ব্যক্তিগতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন বা আহত হন সেখানে আমার কিছুই করার নেই। তাদের পক্ষে আসলেই আমাকে নেওয়া সম্ভব না।’

বাঁধনের মন্তব্য, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের আঘাতে আঘাতে শক্ত হয়েছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন প্রতিবাদী। তবে তার জীবন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক পুরুষেরও অবদান রয়েছে বলে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন তিনি।বাঁধন বলেন,

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী-পুরুষ উভয়ই যে মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে, তার প্রমাণও আছে আমাদের আশেপাশে। সেখানে কিন্তু কেনো সমস্যা নাই। আমি সবসময় বলে এসেছি,

আমার জীবন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে সমাজের অনেক পুরুষের ভূমিকা অনেক বেশি। সেই জায়গা থেকে যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে উঠা পুরুষদের কথা বলেছি, সে জায়গায় থেকে তারা যদি ব্যক্তিগতভাবে আহত হয়ে থাকেন, সেখানে আমার কিছু করার নেই।’

২০১০ সালে পূর্ব পরিচিত মাশরুর সিদ্দিকী সনেটকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী বাঁধন। সেই বছরই জন্ম নেয় তাদের একমাত্র সন্তান মিশেল আমানী সায়রা। বিয়ের ৪ বছরের মাথায় আলাদা হয়ে যান তারা। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয় তাদের।

দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালে সেই খবর জানাজানি হয়। বিচ্ছেদের পর একমাত্র মেয়ে সায়রাকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন বাঁধন। সব প্রতিকূলতা সামাল দিয়ে লড়াকু হয়ে ওঠেন। নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্যদিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসেন বাঁধন।

অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার আগের সেই সংগ্রাম বহুগুণ বেড়েছে এখন। আমি আগের মতো ভেঙে পড়া দূর্বল বাঁধনটি আর নেই। যে আমাকে খুব সহজেই ধুমড়ে মুচরে ফেলে দেওয়া যাবে। আমার বাচ্চার কেসটা এখনও কোর্টে চলছে। কিছুদিন পূর্বে কেসের একটা রায় হয়েছে ।

সে রায়টা নিয়ে আমি বলবো। এখনও আমার আগে সামাজিক যে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ছিলো সেটাও আছে। আমার আশেপাশের যে মানুষগুলো যে রকম ছিলেন যেভাবে যেভাবে আমাকে ট্রমাটাইজ করেছেন, হিমিলিয়েট করেছেন তারা এখনো তাদের জায়গা একেবারে অনড় আছেন। কেউ কেউ রূপ চেঞ্চ করেছেন। তারা এখন ভালো বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই তার তার অবস্থানে আছেন। পরিবর্তন হয়েছে শুধু আমার ভেতরে। আমি এসব আর এখন গায়ে লাগাই না।’

এদিকে চলতি বছর যেসব অভিনয়শিল্পী তাদের কাজের মাধ্যমে তুমুল সাড়া ফেলেছেন তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতের বিনোদনভিত্তিক ওয়েব সাইট ফিল্মিসিল্মি ডটকম। সেখানে এই অভিনয়শিল্পীদের উল্লেখ করা হয়েছে ‘গেম চেঞ্জিং’ তারকা হিসেবে। আর এই তালিকায় হলিউডের এমা স্টোন, লেডি গাগা; বলিউডের প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোনের মতো তারকাদের সঙ্গে ঠাঁই পেয়েছেন বাঁধন।-

সমকাল।

About admin

Check Also

তাহসানকে কাছে পেয়ে আনন্দিত নায়িকা দীঘি

দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসান খানের ভক্ত শিশুশিল্পী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তার ইচ্ছা ছিল কখনো সামনাসামনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.