জানেন ভাই আমার মেয়েটা কিভাবে যেন জেনে গেছে,ও আর বাঁচবে না

পৃথিবীর প্রতিটা বাবা-মায়ের কা’ছে তার সন্তান সব থেকে বেশি দামি।আর এই কারনে প্রতিটা সন্তানই তার বাবা-মা’য়ের কাছে হয়ে থাকে নিজের প্রাণের থেকেও বেশি প্রিয়। তবে অনেক স’ময় পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যেখানে করার থাকে না কিছুই।

তেমন’টিই হয়েছে মাহিদার ও তার বাবা মায়ের সাথে।মাহিদার পুরো নাম মো’সাম্মৎ মেহজাবীন খন্দকার মাহিদা। সাভারের স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যা’লয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী।তার ১৪ বছরের ছোট শরীরটা হাসপা’তালের বেডে ক্যামোর যন্ত্রনায় ব্যাথায় কুকড়ে আছে. ক্যামোর প্রভাবে এখন যেন নড়া’চড়ার শক্তিও নেই।

অথচ মাত্র আড়াই মাস আগেও ছিল সে সুস্থ সবল। যেই মেয়ে’টা কখনো কোন বড় অসুখে পড়েনি তারই এখন ব্লাড ক্যান্সার।মা’হিদার বাবা খন্দকার মারুফুর রহমান সাভারের আল মুসলিম গার্মেন্টস এর স্যাম্প’ল ম্যান। তারা থাকেন সাভারের আড়াপাড়ায়। তার দুই সন্তানের মধ্যে মা’হিদা বড় এবং ছোট একটি ছেলে আছে।

ছোট ছেলেটিকে নানীর কাছে রেখে তারা স্বা’মী-স্ত্রী মাহিদাকে নিয়ে এই হাসপাতাল থেকে ঐ হাসপাতালে দৌড়ে বেরা’চ্ছেন। এক অসহায় বাবা জানেন না মেয়েকে সুস্থ করতে কতদিন লাগ’বে, কত টাকা লাগবে। কান্না জড়ানো কন্ঠে খন্দকার মারুফুর বলেন,

‘জা’নেন ভাই, মেয়েটা একটা আইসক্রীম খেতে গেলেও আমাকে খোঁজে। এখ’নতো হাসপাতালের বেডের পাশ থেকে ১০ মিনিটের জন্যও ওর চোখের আ’ড়াল হতে পারিনা। আমাকে না দেখলে ঔষধও মুখে দেয় না।’

এরপর আরো বললেন, ‘সব’চেয়ে বড় কষ্ট, মেয়েটা কিভাবে যেন জেনে গেছে ওর ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে, চিকি’ৎসা না পেলে বাঁচবে না। আমাকে কখনো জিজ্ঞাসা করে না আমি বাঁচ’বো কি না, শুধু কেমন করে যেন তাকিয়ে থাকে,

আমি ওর চোখের দি’কে তাকাতে পারি না। ক্যামো দেয়ার পর প্রচন্ড খারাপ শরীরেও তার চিন্তা স্কু’ল খুলে গেছে, সামনে জেএসসি পরীক্ষা। তাই আমাকে বলে রেজাল্ট খারা’প হলে কিন্তু মন খারাপ করবে না, কতদিন পড়তে পারছি না।’

মাহিদার অসুখটার নাম একিউট লিম্ফো’বাস্টিক লিউকেমিয়া। এটা একধরনের ব্লাড ক্যান্সার। ডাক্তার’রা বলেছে ওর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকি’ৎসা চালাতে হবে।

একটি গার্মেন্টস কোম্পানীর স্যাম্পলম্যান বাবার পক্ষে এই দীর্ঘ’মেয়াদি চিকিৎসা কোনভাবেই চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। ইতো”মধ্যে তার টে’স্ট, চিকিৎসা, ক্যামো দেয়া বাবদ প্রায় চার লক্ষ টাকা্র বেশি খর’চ হয়ে গেছে।

নিজের জমানো সব টাকা সন্তা’নের জন্য ব্যয় করেছেন এক অসহায় বাবা। আত্মীয়-পরিজন, বন্ধুবান্ধব অনে’কেই তার পাশে এসে দাড়িয়েছেন, তাই তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন হয়তো স’কলের সহযোগীতা পেলে আল্লাহর রহমতে মাহিদাকে আবার সুস্থ করা স’ম্ভব হবে,

আবার মাহিদা স্কুলে যেতে সক্ষম হবে। গত আগষ্ট মাসের ২৬ তারিখ প্র’থম মাহিদার ঘাড়ের পিছনে বাম পাশে একটি রগ ফুলে যায়। ঐ দিন ওর বা’বা ওকে সাভার সরকারী হাসপাতালে নি’য়ে যান,

সেখান থেকে পরে সাভার এনাম মেডি’কেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ঐ হাসপাতাল থেকে পরবর্তীতে তাকে শাহবা’গ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আ’সা হয়। সেখানে ডায়াগনোসিসে মাহিদার শরীরে ক্যান্সার ধরা পরে।

দে’রি না করে খুব দ্রুতই ডাক্তাররা তার চিকিৎসা শুরু করেন। পিজির হেমো’টলজি বিভাগের প্রফেসর ডাক্তার আতিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে অক্টোব’রের সাত থেকে সতেরো তারিখ পর্যন্ত মাহিদাকে সাতটি ক্যা’মো দেয়া হয়।

মাহিদার ছোট শরীরটা অনেকগুলো ক্যা’মোর ধকল সহ্য করতে পারেনি, ফলে ওর শরীর খুবই খারাপ হয়ে যায়। এক’দিকে টাকার সমস্যা অন্যদিকে শরীর খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাকে পি’জি হাসপাতাল থেকে সাভারের জামাল ক্লিনিকে ভর্তী করা হয়। কিন্তু অবস্থা ক্র:মেই খারাপ হলে তাকে আবার সাভার এনাম মেডিকেলে নিয়ে আ:সা হয়। সেখানে এমআরআই করে জানা যায় তার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। এই সময়ে তার কি’ছু আত্মীয় পরিজন ও এলাকার বন্ধু-বান্ধবরা মাহিদার

চিকিৎসা সহযোগীতায় এ’গিয়ে আসে। এরফলে তার চিকিৎসা চলছে এবং ইতোমধ্যে স্ট্রোকের ধাক্কা মেয়েটা অনেক’টাই রিকভার করেছে। কিন্তু শরীরে যেহেতু বাসা বেধেছে ক্যান্সার তাই ট্রিটমে’ন্টতো করতেই হবে। আবার চিকিৎসার জন্য রয়েছে অর্থের অপ্র’তুলতা। তাই মাহিদাকে চিকিৎসার জন্য পুনরায় নভেম্বরের ৩ তারিখে মির’পুরের আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে। সে এ’খন কেবিন নাম্বার ৫০৮ এ আছে। সেখানে গতকাল ৬ নভেম্বর তাকে পু’নরায় একটি ক্যামো দেয়া হয়েছে। যেহেতু ডাক্তাররা আশাবাদী তাই মাহি’দার বাবাও আশা করছেন যদি সমাজের বিত্তবানরা এই ছোট মেয়ে’টির চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন তাহলে হয়তো ওকে সুস্থ করে তো’লা সম্ভব

About admin

Check Also

নিজ হাতে পবিত্র কাবা পরিষ্কার করলেন সৌদি যুবরাজ

এবার সৌদি আরবের মক্কা নগরীর গ্র্যান্ড মসজিদের পবিত্র কাবা শরীফ নিজ হাতে পরিষ্কার করেছেন সৌদি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.