‘হঠাৎ পিকআপ এসে চাপা দিল, চোখ খুলে দেখি আমার মেয়ে আর নেই’

গতকাল সোমবার স্কুলের বিরতির সময় মা শামীমা নাসরিন মেয়ে জারিন তাসনিমকে (৭) টিফিন খাইয়ে কোলেই রেখেছিলেন। হঠাৎ স্কুলপ্রাঙ্গণে মা, মেয়ে, এক স্কুলশিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয় একটি পিকআপ ভ্যান।

মা পড়ে যান। পরমুহূর্তে তাকিয়ে দেখেন, পাশে মেয়ে জারিনের নিথর দেহটি পড়ে আছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর জারিন ও স্কুলশিক্ষক ফাতেমা আক্তারকে (৩৫) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার টেপড়া এলাকায় আবদুল আলীম মেমোরিয়াল স্কুলের মাঠে গতকাল এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের দেপশাই গ্রামের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এ কে এম নূরুল বাসারের (৭০) বাড়ির উঠানে জটলা করে বসে ছিলেন বেশ কয়েকজন। তাঁরা সবাই ছোট্ট জারিনকে হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ।

মেয়েকে হারিয়ে মা শামীমা নাসরিন বুকে চাপা কান্না নিয়ে বেলা দুইটার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাভারে চিকিৎসক দেখাতে রওনা হন। নিজের কোল থেকে মেয়েকে হারানোর দুঃসহ স্মৃতি তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। বললেন, ‘আমার কোলেই ছিল সে। হঠাৎ পিকআপ এসে চাপা দিল। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। চোখ খুলে দেখি, আমার মেয়ে আর নেই। আমার কোলে মেয়েকে নিরাপদ রাখতে পারিনি।’

জারিনের বাবা শহীদুল ইসলাম চুপচাপ বসে ছিলেন। তাঁর জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে একমাত্র মেয়ে জারিন।

তিনি বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের পর আমিই মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতাম। আমাদের পরিবারের সুখগুলো ছিল তাকে ঘিরেই। জারিন ঘুরে বেড়াতে ভীষণ পছন্দ করত। ব্যস্ততার ফাঁকে মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। এখন আর ঘুরে বেড়ানোর বায়না ধরার কেউ রইল না আমাদের জীবনে।’

গত শুক্রবার মা–বাবার সঙ্গে দাদার বাড়িতে এসেছিল জারিন। পরের দিন শনিবার বিকেলে চলে যায় তাদের মানিকগঞ্জের টেপড়ার বাসায়। বাবা সোনালী ব্যাংকের টেপড়া শাখার ব্যবস্থাপক হওয়ায় সেখানেই থাকে তার পরিবার।

দাদি নাসরিন বাসার (৬৫) নাতনির কথা বলতে গিয়ে বারবার কেঁদে উঠছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভীষণ বুদ্ধিমতী ছিল আমার দাদু ভাই। মিষ্টি করে কথা বলত। শনিবার যাওয়ার আগে আমারে লজেন্স দিয়া গেল আমার দাদুভাই। সে আর আসবে না আমাকে লজেন্স দিতে।’

জারিনের শেষ বায়নাটা ছিল দাদুর কাছে। বাড়ির পেছনে বালু ফেলে ভরাট করেছেন দাদা নূরুল বাসার। জারিন সেখানে তাকে একটি বাড়ি বানিয়ে দিতে বলেছিল দাদাকে। দাদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দাদুভাই আমাকে বলেছিল তাকে একটা বাড়ি বানিয়ে দিতে। আমি বলেছিলাম, একটু বড় হলেই তোমাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসব। আমার দাদুভাই এল ঠিকই। তবে চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে গেল।’

About admin

Check Also

১৩ জ’ন স্ত্রী’কে এ’কসাথে গ’র্ভবতী বা’নিয়ে বি’শ্বরেকর্ড ক’রলেন স্বা’মী

বহুবিবাহ প্রথা ভারতে বহু বছর আগে ছিল, যেখানে একজনের একাধিক স্ত্রী থাকতো যদিও কিছু কিছু …

Leave a Reply

Your email address will not be published.