কাঁদতে কাঁদতে রায়ে সন্তোষের কথা জানালেন আবরারের মা

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদের মায়ের ফোন বেজে উঠল। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হলো, রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এমন কথা শোনার পর কাঁদতে থাকেন আবরারের মা রোকেয়া খাতুন।

কাঁদতে কাঁদতে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন প্রথম আলোকে বললেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আবেদন করছি, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া অমিতের যেন ফাঁসি হয়। ফাঁসির আসামি সবার রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।’

বেলা ১১টার পর থেকে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কে আবরার ফাহাদের বাড়িতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা ভিড় করতে থাকেন। তখন বাড়িতে ছিলেন না আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ও ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন মা। ফাইয়াজ এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন মা রোকেয়া খাতুন। দুপুর ১২টার দিকে টেলিভিশনের সামনে বসে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রায় ঘোষণার স্ক্রল দেখার পাশাপাশি ঢাকায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ফোন করে রায়ের খবর দেন। রায় শোনার সঙ্গে সঙ্গে রোকেয়া খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে রায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর বাকি আসামিদের ফাঁসির জন্য আবেদন জানাবেনবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

দুই বছর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তা আমলে নিয়ে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ২২ জনকে আজ আদালতে আনা হয়। পলাতক তিনজন। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত নেতা–কর্মী।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা,

মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ। তাঁদের মধ্য মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ পলাতক।যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ মুন্নার।

About admin

Check Also

বাইক চালানোর নামে যুবতীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত, মুহূর্তে ভাইরাল ভিডিও

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বাইক বা গাড়ি কিনতে ভা,লোবাসেন। যদিও বাইক চা’লানো অনেকের পছন্দের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.